| Is |
Writer Editor |
| From | India |
| Type |
Journalism Literature |
| Gender | female |
| Birth | 1895 |
নিরুপমা দেবী (১৮৯৫ – ১৯৮৪) ছিলেন কোচবিহার রাজপরিবারের মহারানী, কবি ও গান্ধীবাদী সমাজকর্মী।
প্রথম জীবন
উত্তরপ্রদেশের হোসেংগাবাদে জন্মগ্রহণ করেন নিরুপমা, পিতা মতিলাল গুপ্ত সিভিল সার্ভেন্ট ছিলেন। মাতার কাছে কাব্য ও সাহিত্যের অনুরাগ প্রাপ্তা নিরুপমা দেবীর বিবাহ হয় কোচবিহার রাজপরিবারে, সেখানে তিনি সচিত্র আকারে ‘পরিচারিকা’ পত্রিকা বের করেন, যা কোচবিহার জেলার প্রথম সাহিত্য পত্রিকা। ১৯২৩ – ১৯৩১ সেই পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন রানী নিরুপমা দেবী।
সাহিত্যচর্চা ও রাবিন্দ্রীক সান্নিধ্য
বিশের দশকে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করেছেন তখন থেকেই বাংলা সাহিত্য ও কবিতার প্রতি গভীর অনুরাগ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু ছোটগল্পের নাট্যরূপ দেন। কোচবিহার রাজবাড়িতে প্রতিভাময়ী নিরুপমা দেবীর সাহিত্যচর্চার মূল্যায়ন হয়নি। নানা কারনে প্রথম স্বামীর সংগে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। রবীন্দ্রনাথের তত্বাবধানে তার পূন:বিবাহ হয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, গান্ধীবাদী সমাজকর্মী ভূদান আন্দোলনের নেতা শিশির কুমার সেন এর সাথে। তার রচিত কবিতার সমষ্টি ‘ধুপ’ (১৩২৫ বংগাব্দ)। অন্যতম গ্রন্থ ‘গোধুলি’ প্রকাশিত হয় ১৩৩৫ বংগাব্দে।
সামাজিক আন্দোলন
চল্লিশের দশকে মহাত্মা গাঁধীর সান্নিধ্যে আসেন। স্বামী শিশির সেনের সাথেই গান্ধী অনুপ্রাণিত সর্বোদয় সেবার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। কংগ্রেস সাহিত্য সংঘে যোগদান ১৯৪৩ সালে এবং সংঘ পরিচালিত ‘অভ্যুদয়’ গীতিনাট্যের কাহিনীসূত্র গানের মালায় ছন্দিত করার দায়িত্ব নেন। ১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ডায়মন্ডহারবার খাদি মন্দিরের অধিকাংশ কর্মী কারারুদ্ধ হলে তিনি স্বামীর সাথে এসে সেখানকার মধুসূদনপুর আশ্রমের কাজ চালিয়ে নিয়ে যান। ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে ঐ অঞ্চলের দুর্গতদের মধ্যে সেবাকাজ চালান। পরবর্তীকালে নদিয়া জেলার সাহেবনগরে বসবাস করতে থাকেন ও গঠনমূলক কাজের নিমিত্ত কস্তুরবা ট্রেনিং কলেজ, পল্লী অনাথ আশ্রম চালু করেছিলেন।